ই-কমার্সে লাইফ ইজি
  • Save
E-commerce

ই-কমার্সে লাইফ ইজি এবং সাইটের কার্যকারিতা

 

প্রতিদিন আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু গতি কমছে পথ চলায়। ঘন্টার পর ঘন্টা কাটছে জ্যামে। তাই বলে দায়িত্ব- কর্তেব্যর মিশেলের জীবন যাপন থেমে গিয়েছে, তা কিন্তু নয়। বরং আমাদের ব্যস্ততা বেড়েছে। সাথে পাল্লা দিয়ে চাহিদাও। জীবন মান উন্নয়নের সাথে চাহিদার সম্পর্ক সমানুপাতিক। ই-কমার্সে লাইফ ইজি হয়েছে তাই এখন অনেক।

ই-কমার্সের চাহিদা

ই-কমার্স খুব একটা নতুন প্ল্যাটফর্ম নয় আমাদের দেশে। বলা যায় এক যুগের বেশি সময় ধরে পথচলা। কিন্তু বর্তমান সময়ে এর ব্যবহার বেড়েছে। সাথে সাথে ব্যবসার কলেবর বাড়িয়েছেন উদ্যোক্তারা। প্রতিদিনের প্রয়োজনের সব কিছুই এখন তাই পাওয়া যাচ্ছে ই-কমার্স সাইটে। সাথে রয়েছে ঠিকানায় পৌঁছে দেয়ার আশ্বাস, ক্যাশ অন ডেলিভারী, এমনকি ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ কার্ডে বিল পরিশোধের সুবিধা। এ সব কারনেই বাড়ছে নির্ভরতা।

ই-কমার্সে লাইফ ইজি এর উদাহরণ

প্রযুক্তি নির্ভর এই কেনাকাটায় অভ্যস্ত কয়েক জনের সাথে কথা হয় এ বিষয়ে। নবনীতা সেন, কাজ করছেন একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে। সকাল থেকে সন্ধ্যা কর্ম মুখর সময় পার করেন তিনি। দিন যাপনের ঠিকানা আর কর্মস্থলের মাঝের পথ পারি দিতে বেশ লম্বা সময় দরকার হয়। তাই বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত। পরিবারের প্রয়োজন প্রতিদিনের। চাইলেও সপ্তাহান্তে সব কাজ সেরে নেয়ার অবকাশ নেই। কেমন করে তিনি গুছিয়ে চলেন সব, জানতে চাইলে বললেন, ‘আমার মূলত সংসারের জন্য প্রয়োজন মেটানোর চাহিদা হুটহাট তৈরি হয়। এর বাইরে আমার দু বছরের সন্তান রয়েছে। তাই বেবি প্রোডাক্ট দরকার হয়ে থাকে। এসবের জন্য ই- কমার্স সাইটে ভরসা আমার। সহজেই প্রয়োজন জানানো যায়। আবার ঠিকানাতে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বটাও তারাই পালন করে থাকেন।‘

বই পড়তে দারুন ভালবাসেন সেঁওতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের প্রাক্তন ছাত্রী তিনি। এক সময় নিয়মিত বই কিনতেন শাহবাগ থেকে। এখন বসুন্ধরা থেকে শাহবাগ অবধি যাওয়ার পরিকল্পনা করতেই দিন কেটে মাস। নতুন বই থেকে যেত  অধরা। ই- কমার্স সাইটে বই পাওয়া যাচ্ছে। সেঁওতিকে এই সার্ভিস দিয়েছে স্বস্তি। প্রিয় বই এখন হাতের নাগালেই। এ বিষয়ে সেঁওতি বলেন, ‘বই আমার প্রতিদিনের এক টুকরো নিজের জগত। ই- কমার্স সাইটে নানান রকম বইয়ের সমারোহ । যেন প্রতি দিন চলছে বই মেলা। বই খুঁজে অর্ডার করেই আমি  নিশ্চিন্ত। জানি বই পৌঁছে যাবে ঠিকানাতে।‘

রাকিব রায়হান, একজন সরকারী কর্মকর্তা। ব্যস্ততা দেয় না তাকে অবসর। সাথে রয়েছে পারিবারিক দায়িত্ব পালনের রুটিন। নিজের জন্য কেনাকাটার সময় মেলানো তাই বেশ খানিকটা কঠিন। কিন্তু রাকিব সব সময়েই পরিপাটি আর ফ্যাশন সচেতন। জানতে চাইলাম, ‘কি ভাবে সময় ম্যানেজ করেন?’ জবাবে তিনি বললেন, ‘খুব সহজেই এখন কিনে নিতে পারি পছন্দের সব কিছু। কারন হাতের মুঠোয় আছে মুঠোফোন, আর জানা আছে প্রিয় ই- কমার্স সাইটের ঠিকানা। নিমিষেই তাই প্রয়োজন মিটে।‘ আরও বলেন, ‘নিজের জন্য কেনাকাটার জন্য আমি বিভিন্ন সাইট ভিজিট করি। বর্তমানে ই- কমার্স সাইটে পন্য রয়েছে হাজারো। তাই পছন্দের পন্য খুঁজে নেয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সাথে বেশ কিছু সাইটে রয়েছে মাস্টার কার্ড এবং ভিসার মাধ্যমে কেনাকাটার সুবিধা। যার ফলে পেমেন্ট সিস্টেম দারুন স্বস্তির।

গান শুনতে দারুন ভালবাসেন দীপ্ত। সকালে ঘুম থেকে উঠেই পছন্দের সুরে দিন শুরু করেন তিনি। আবার বাড়ি ফিরে ঘুম অব্দি ঐকতানের মূর্ছনা। প্রয়োজন ছিল উন্নত মানের একটি হাই ফাংশন স্পিকারের। কিন্তু ব্র্যান্ড চাই বিদেশী। কাছের কেউ কাছাকাছি সময়ে দেশে ফিরবেন কি না খোঁজ নিলেন। জানলেন, সেভাবে কারো পরিকল্পনা নেই। অগত্যা ভাবছিলেন কি করবেন। কিভাবে কিনবেন। এক সময় গুগল করে জানতে পারলেন দেশের ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমেই মান সম্পন্ন পন্য পাওয়া যাচ্ছে হাতের নাগালেই। ঠিকানা খুঁজে সেখানে থেকেই নিয়ে নিলেন স্পিকার। প্রথমে শতভাগ আস্থা না থাকলেও, ব্যবহারের মাধ্যমে বুঝতে পেরেছেন কেনার সিদ্ধান্ত শতভাগ সঠিক ছিল। দীপ্ত বলেন, ‘দেশি ই-কমার্স সাইট এখন আমার দেশে থাকা বিদেশী বন্ধু। যার কাছে প্রয়োজন জানাতে হয় শুধু। নিমেষেই পন্য হাজির। স্পিকারের পরে তাই আমি আরও বেশ কিছু পন্য নিয়েছি।‘

বুবলির মন খারাপ মানেই তার চাই নতুন কিছু। এভাবেই নিজেকে নিজে ট্রিট দিতে পছন্দ করেন তিনি। একুশ বছর বয়সের দুরন্ত মন শপিং মল ঘুরতে ভালোবাসে। কিন্তু বাসায় গা এলিয়ে মনিটরে পছন্দের পন্য খুঁজে নেয়ার আনন্দটাও কম নয়। বুবলি তাই বেশ ভালোবাসেন অনলাইন শপিং করতে। ইয়াং জেনারেশনের জন্য বেশ আয়োজন রয়েছে ই- কমার্স সাইটে । বুবলি নিয়মিত ক্লাইন্ট। বললেন, ‘ই- কমার্স সাইট ঘুরতে ঘুরতে পছন্দের পন্যটি বেছে নেই। শুধু প্রয়োজনেই পন্য কিনতে হবে এমন নয়, পছন্দ হলেও বেছে নেয়া যেতেই পারে। আমার তাই ই – কমার্স সাইটে ঘুরে বেড়ানোর চাহিদা।‘

 

মানুষের মন সব সময়েই অনন্য। এক এক জন তাই এক এক কারনে ই- কমার্সে খুঁজে পান স্বস্তি। বাড়ছে চাহিদা। যোগ হচ্ছে নতুন পন্য। প্রযুক্তি জীবনকে করেছে সহজ। খুলে দিচ্ছে নতুন দ্বার। যোগ হচ্ছে নতুন নতুন পন্য। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সাইট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *