ই-কমার্স বিজনেস শুরু
  • Save
E-commerce

কিভাবে ই-কমার্স বিজনেস শুরু করবো ?

ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার আগে অনেকেই কনফিউসড থাকেন যে কত টাকা এই ব্যাবসায়ের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু খুবি সহজ। ই-কমার্স ব্যাবসায়ে আপনি যে আয় করতে পারবেন এর কোন গ্যারান্টি নেই! সঠিক নিয়মে আপনার ই-কমার্স ব্যাবসায়টি শুরু করলে হতে পারে আপনি প্রতি মাসে এক লাখ টকা আয় করতে পারেন আবার হতে পারে আপনি এক কোটি টাকাও আয় করতে পারেন। এটা সম্পূর্ণ আপনার ওপর নির্ভর করে যে আপনি ই-কমার্স স্টোর টিকে কিভাবে মেইনটেইন করছেন। এখানে আপনার মনে আরো একটি প্রশ্ন আসতে পারে! সেটি হচ্ছে আমি যে ই-কমার্স ব্যবসায় করবো আমি কি সফল হবো? দেখুন প্রায় প্রতিটি ব্যাবসায়ের মধ্যেই কম বেশি ঝুঁকি থাকে। এখানে সফলতা অর্জন করতে হলে অবশ্যই আপনাকে ঝুঁকি নিতে হবে। আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমারা ই-কমার্স ব্যবসা কিভাবে শুরু করবো তা নিয়ে আলোচনা করবো।

ই-কমার্স বিজনেসটি কি?

ইলেকট্রনিক কমার্স বুঝায় সোজা কথায় ই-কমার্স । অনলাইনে কেনাকাটা করবেন , অনলাইনে আপনার ক্রেতা একটি প্রোডাক্ট পছন্দ করবে এবং তা কেনার আগ্রহ দেখাবে সেই মানুষ এবং যখন সেই ব্যক্তি আপনার প্রোডাক্ট কেনার জন্যে অনলাইনে টাকা প্রদান করলো , ঠিক তখন থেকে আপনার দায়িত্ব বেড়ে গেলো কয়েকগুন । প্রথমেই অনলাইনে পেমেন্ট কনফার্ম করতে হচ্ছে আপনাকে , তারপর ক্রেতার পছন্দের জিনিসটি আপনার স্টক থেকে খুঁজে বের করে ভালো একটি প্রোডাক্ট ক্রেতার ঠিকানায় ডেলিভারি করতে হবে সঠিকভাবে । এখানেই উদ্যোক্তার দায়িত্ব সমাপ্ত নয় , কাজ এখান থেকে আরও নিবিড়ভাবে শুরু হয় । ক্রেতা প্রোডাক্ট পাওয়ার পর ক্রেতার সার্ভিস এবং প্রোডাক্ট সম্পর্কে অনুভূতি কি জানতে হবে এবং এই ক্রেতা যেন পরবর্তীতেও আরও প্রোডাক্ট কেনে সেই ব্যাপারে সচেতন হতে।

কেন করবেন ই-কমার্স বিজনেস?

আপনি যথেষ্ট পরিমান দায়িত্বশীল মানুষ ? মানুষকে ভালো সার্ভিস কিভাবে দিতে হয় , প্রোডাক্ট নিয়ে আপনার চিন্তাভাবনা অন্য অনেকের থেকেই খুব সুচারুভাবে সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হবেন, তবেই এই ব্যবসা নামতে পারেন । তবে কিন্তু আছে ! কয়েকবছর এই ব্যবসা সম্পর্কে আপনার বিশদ একটা ধারণা রাখতে হবে । প্রায়োগিক জ্ঞান এবং অর্থ এই দুটোর কোন একটি কম হলেই এই ব্যবসায় সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটুকু আপনার কমে যাবে । সেইজন্যে ভাবুন ! সময় নিন আপনার কি কি বিষয় জানা কম আছে যা এই ব্যবসায় নামার আগে আপনাকে কঠিন অবস্থার সম্মুখীন করতে পারে । টেকনিক্যাল বিষয় , প্রোডাক্ট সোর্সিং , প্রোডাক্ট ডেলেভারি , পেমেন্ট , কমিনিকেশন , রিসার্চ , ডেভেলপমেন্ট , কাস্টমার সাপোর্ট , মার্কেটিং , সময়ের সাথে পলিসি ঠিক করা , আইনি বিষয়ে নিজে কতটুক জানেন এসব বিষয় আপনাকে জানতে হবে।

কিভাবে শুরু করবেন ই–কমার্স ব্যবসা?

ব্যবসা শুরু করার আগে কয়েকটি বিষয় আপনাকে অনেক গুরুত্বের সাথে চিন্তা করতে হবে । সেই বিষয়গুলো হলোঃ

কি প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে চান?

কি ধরণের প্রোডাক্ট মূলত বিক্রি করবেন সেই বিষয়ে লক্ষ্য নির্ধারণ করুন । একসাথে কতগুলো প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করা আপনার পক্ষ্যে সম্ভব । মানুষ আসলে কি ধরণের প্রোডাক্ট কিনতে চায় সেই প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করা প্রোডাক্টগুলো কি সহজে সংগ্রহ করা যাবে নাকি না । যদি সম্ভব হয় তবে কত কম খরচে তা সংগ্রহ করা যাবে তা ঠিক করতে হবে এবং সংগ্রহ করা আপনার পক্ষে অনেক কঠিন হলে কত সহজে সংগ্রহ করা যায় খেয়াল করতে হবে ।

পণ্যর সোর্স খুজুন

প্রথম ধাপে আপনি যখন কি ধরনের পণ্য নিয়ে ব্যাবসা শুরু করবেন সেটা বাচাইয়ের পর এবার আপনার বাচাই কৃত পণ্যের সোর্স খুজে বের করুন। উদাহরণ হিসেবে ধরুন আপনি গ্যাজেট আইটেম নিয়ে কাজ করবেন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন আপনাকে খুজতে হবে গ্যাজেট আইটেম আপনি হোল সেলে কোথায় পাবেন কারা বাংলাদেশে গ্যাজেট আইটেম গুলো ইম্পোর্ট করে থাকে তাদের কে খুজে বের করুন।

আপনার ব্যাবসায়িক নাম বাচাই করুন

প্রতিষ্ঠানের নাম নির্ধারণ করতে হবে । যদি বিশেষ কোন প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে থাকে তবে সেই প্রোডাক্ট এর নামে প্রতিষ্ঠানের নাম খোলা যায় , আর যদি বেশকিছু প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে থাকে তবে প্রোডাক্টগুলোর সাথে মানানসই সেইরকম ভাবে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিক করতে হবে এবং ট্রেডমার্ক , লোগো সহ যাবতীয় আইনি কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে । নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমসাময়িক শব্দ কিংবা কিওয়ার্ড নিয়ে দারুণভাবে সময়কে পর্যবেক্ষণ করতে এবং মানুষ কোন শব্দ পছন্দ করে তা নিয়ে আলোচনা – চিন্তা করতে হবে । তাহলেই ভালো নাম মনে আসবে । মনে রাখতে বিজনেস দাঁড় করানোর প্রথম পদক্ষেপই হচ্ছে নাম । নাম দিয়েই মানুষ আপনার প্রতিষ্ঠানকে চিনবে । নাম নির্বাচন ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । মনে রাখতে হবে “Name is brand” , তারপর মানুষের কাছেই আপনি আপনার কোম্পানির ভালো সেবা নিয়ে খুব সহজে ভালো স্থান করতে পারবেন।

ডোমেইন এবং হোস্টিং নির্বাচন

ডোমেইন এবং হোস্টিং নির্বাচন করতে হবে । ডোমেইন নিয়ে রিসার্চ করতে হবে কি ধরণের ডোমেইন নাম অর্থাৎ ওয়েবসাইটের ঠিকানা কি হলে মানুষ খুব পছন্দ করবে। সহজে পড়া যায় এবং সুন্দর একটা নাম রাখতে হবে । যেই নাম দিয়েই আপনি ক্রেতার কাছে আকর্ষণ করতে পারবেন আপনার সার্ভিসের বিষয়ে ।

ওয়েবসাইট এর প্ল্যাটফরম তৈরি

ওয়েবসাইট এর প্ল্যাটফরম কি হবে এবং কোনটি সহজ সবকিছু বিবেচনা করে CMS কিংবা কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সিলেক্ট করতে হবে ।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য (CMS কিংবা কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম )

Opencart – আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং সহজে ব্যবহার উপযোগী ওপেনসোর্স কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হিসেবে এটি ব্যবহার করা যায় ।

Magento – Zend Framework এ তৈরি জনপ্রিয় একটি কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এটি । বিভিন্ন ধরণের জনপ্রিয় ফিচার রয়েছে ই-কমার্স এর জন্যে জনপ্রিয় এই ফ্রি ওপেনসোর্স ম্যাজেন্টো’তে ।

Presta shop – ফ্রি ওপেনসোর্স ভিত্তিক একটি CMS বা কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এটি । সুন্দর এবং আকর্ষণীয় ডিজাইনের জন্যে এটি বেশ জনপ্রিয়।

Zencart – জনপ্রিয় একটি ওপেনসোর্স ভিত্তিক CMS হচ্ছে জেনকার্ট ।

Woocommerce – ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে আকর্ষণীয় সাইট তৈরি করা যায় Woocommerce এর দ্বারা । একটি ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন এটি ।

কিওয়ার্ড রিসার্চ

কিওয়ার্ড রিসার্চ একজন উদ্যোক্তাকে তার নেয়া উদ্যোগের ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে নেবে । কিওয়ার্ড নিয়ে নিজের সম্ভাব্য প্রোডাক্ট নিয়ে রিভিউ লিখে ব্লগ করা যেতে পারে । সার্চ ইঞ্জিনে যেসব প্রোডাক্ট কিওয়ার্ড নিয়ে মানুষ বেশি সার্চ করে সেইসব কিওয়ার্ড নিয়ে ই-কমার্স সাইটের ব্লগে কাজ করা উচিত নিজের প্রোডাক্ট এর ওপর । এতে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং ব্লগের মাধ্যমে ক্রেতার কাছে নিজের কোম্পানির প্রোডাক্ট সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা যাবে । পেইড টুল ahrefs সফটওয়্যারটি ব্যবহার করা যায় এবং ফ্রি টুল Ubersuggest দিয়ে কিওয়ার্ড রিসার্চ করা যাবে ।

মার্কেটিং

যত ভালো অবস্থাই থাকুক প্রতিষ্ঠানের , আপনি ঠিকমত যদি মার্কেটিং করতে না পারেন তবে আপনি আপনার কাস্টমারদের কাছে পৌঁছাতে পারবেন না । আর কাস্টমারদের কাছে পৌঁছাতে না পুরো ব্যবসাই লাভের দেখা পাবেনা । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সঠিক ব্যবহার করতে হবে , ফেসবুক , টুইটার সহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেইড বিজ্ঞাপন করতে হবে । পেজ প্রমোট করতে হবে , সাথে পেজ থেকে বুস্টপোস্ট করতে হবে । এছাড়া এসইও , ইমেইল মার্কেটিং , এসএমএস মার্কেটিং , পোস্টারিং , লিফলেট , ডিজিটাল বিজ্ঞাপন সবকিছুর নিয়ে চিন্তা করতে হবে . আপনাকে ধরে রাখতে হবে মূল ব্যবসায়ের ৩৫-৪৫% এর মতন অর্থ ব্যবস্থা রাখতে হবে নূন্যতম মার্কেটিং এর জন্যে । এতে করে ক্রেতার কাছে সহজে আপনি আপনার প্রোডাক্ট নিয়ে পৌঁছাতে পারবেন ।

পেমেন্ট সিস্টেম

পেমেন্ট প্রসেস কি হবে সেই সম্পর্কে ভালোরকম ধারণা পোষণ করতে হবে একজন নতুন উদ্যোক্তাকে । ক্যাশ অন ডেলেভারি এবং অনলাইন পেমেন্ট দুইটি মাধ্যমের ব্যবস্থা রাখতে হবে । ক্রেতাকে সময়ের সাথে সাথে অনলাইনে পেমেন্ট করে কেনাকাটায় আগ্রহী করে তুলতে চেষ্টা করতে হবে ।

ডেলিভারি ব্যাবস্থা ঠিক করে নেয়া

যেহেতু আপনার বিজনেস অনলাইনে এবং পণ্য ডেলিভারি কাস্টমারের ঘরে দিয়ে আসতে হবে সেই ক্ষেত্রে আপনাকে বিশেষ মনযোগী হতে হবে ডেলিভারি ব্যাবস্থার উপর।

কাস্টমার সাপোর্ট

অনেক সময় প্রোডাক্ট নিয়ে অনেক সমস্যা হয় । সেই বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্যে ২৪ ঘণ্টা কাস্টমার সাপোর্ট ব্যবস্থা করতে হবে ,যা ক্রেতার সন্তুষ্টি অনেকাংশে বৃদ্ধি করবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *