করোনা ভাইরাস এবং বাংলাদেশ
  • Save
E-commerce

করোনা ভাইরাস এবং বাংলাদেশের অসংখ্য ক্ষুদ্র ই-কমার্স ব্যবসা

উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি কিংবা ব্যবসায়ীক লেনদেন এর অন্যতম পরাশক্তির নাম চীন। বিশ্ব বাণিজ্যের দাপটে এই দেশ চরম দুঃসময় পার করছে করোনা ভাইরাস এর আক্রমনে, যার প্রভাব এখন চীন ছাড়িয়ে গুটা বিশ্বে। চীনা কারখানা গুলো বাধ্যতামূলক ছুটির কারনে ইতোমধ্যে দেশটির ক্ষতির হিসেব দেয়া হয়েছে ৬২ বিলিওন ডলার। ভাইরাস আক্রান্ত রাজ্য হুবেই থেকে চীনা অর্থনীতির প্রায় ৪ শতাংশ আসে। করোনা ভাইরাস এর কারনে বড় বিপর্যয়ের মুখে চীনা অর্থনীতি। বিশ্ব রপ্তানিকে নেতৃত্ব দেয়া এই দেশের বিভিন্ন কল কারখানা বন্ধ থাকায় চাপের মধ্যে পরে গেছে প্রায় গুটা বিশ্ব, যার অনেক বড় প্রভাব পরতে যাচ্ছে বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানি সহ দেশের অসংখ্য ক্ষুদ্র ই-কমার্স, ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসায়ী যারা ব্য‌ক্তিগত পর্যায়ে চীনা পণ্যের উপর নির্ভর করে । দেশের ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ শিল্প পণ্য আমদানির সবচেয়ে বড় বাজার হলো চীন।

করোনা ভাইরাস এবং বাংলাদেশে এর প্রভাব

যদিও আমাদের দেশে এখনও খুব বড় আকারে সঙ্কট তৈরি হয়নি এর অন্যতম কারন, করোনা ভাইরাস এমন সময় বড় আকার ধারন করেছে যেই সময়টা এমনিতেই চীন থেকে আমদানি কিছুটা কম থাকে চীনা নববর্ষের কারনে। ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি সময় থেকে বিভিন্ন শিপমেন্ট হবার কথা থাকলেও তারা জানিয়েছে ফেব্রুয়ারীর শেষ সপ্তাহের আগে তাদের কারখানা চালু হবে না, আর শিপমেন্ট শুরু হবে মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। সেই হিসেবে এপ্রিল এর দ্বিতীয় সপ্তাহের আগে পণ্য আসবে না। আর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে আদও আমদানি হবে কিনা বা কবে হবে সেইটা বলা দুস্কর।  হঠাৎ করে চীন থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করতে হওয়ায় এ ধরনের ব্যবসায়িদের জন্য একটি ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে এটি। ক্ষুদ্র পর্যায়ের এসব ব্যবসার ক্ষেত্রে করোনার প্রভাব দৃশ্যমান হবে বেশি। এরা দেশের অর্থনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি প্রভাব না ফেললেও এ ধরনের ক্ষুদ্র উদ্যোগের ভালো অবদান রয়েছে দেশের অর্থনীতিতে।

বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য, খেলনা, প্লাস্টিক পণ্য আমদানির সব চেয়ে বড় বাজার চিন। আবার এই সমস্ত পনের দেশিও কারখানা গুলোর কাঁচামালও আসে চীন থেকেই আর কাঁচামাল আমদানি করা সম্ভব না হলে সরবরাহও কমে যাবে।

করোনা ভাইরাসে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ

চীনে করোনা ভাইরাসের কারনে চীনের পর সব চেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের সুতা, মেশিনারিজ, রাসায়নিকসহ বিভিন্ন পণ্য চীন থেকে আমদানি হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চীন থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ ছিল ১৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। যা ওই অর্থবছরের মোট আমদানির প্রায় ২৬ শতাংশ। এই আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশ বস্ত্র, মেশিনারী, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য।

বাংলদেশের বেশিভাগ উন্নয়ন প্রকল্প যেমনঃ পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতু রেলওয়ে সংযোগ, পায়রা সমুদ্র বন্দর, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল সংযোগ, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ এ কাজ করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রকল্পে প্রায় ৮০০ চীনা নাগরিক কর্মরত যার মধ্যে ২০০ নাগরিক চীনে নববর্ষের অনুষ্ঠানএ গিয়ে আর ফেরত আসতে পারেনি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ গত ২০১৮-১৯ অর্থবছর চীনে পাট ও পোশাক রপ্তানি করে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের বেশী। বাংলাদেশের চামড়া খাতের সব চেয়ে বড় ক্রেতা চীন। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ৭০ লাখ স্কোয়ার ফিট চামড়া মজুত আছে যার বাজার মূল্য প্রায় ১২০ কোটি টাকা। চীনা ক্রেতারা এসে চামড়া গুলো নেয়া এবং পরের অর্ডার দেয়া এখন অনেকটাই অনিশ্চয়তার মধ্যে পরে গেছে।

গার্মেন্টস শিল্পের কাঁচামাল সঠিক সময়ে না আসায় অনিশ্চয়তার পরে যাচ্ছে এ খাতের ডেলিভারি।

মোট কথা

এর‌ই মধ্যে আমদানির ক্ষেত্রে চীনের বিকল্প বাজার খুঁজতে শুরু করেছেন অনেক ব্যবসায়ী। তাদের আশঙ্কা, করোনার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে কাঁচামাল নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে। এছাড়া স্বল্প সময়ে বিকল্প উৎস-দেশের (সোর্স কান্ট্রি) সাথে আলোচনাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *