digital marketing full guide
  • Save
E-commerce

ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পূর্ণ গাইড (A to Z)

ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমানে পণ্য প্রচারণায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে হলে সবার আগে জানতে হবে মার্কেটিং কি?  

মার্কেটিং হল একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে আপনি আপনার তৈরিকৃত পণ্যটি সম্পর্কে আপনার আশেপাশে থাকা মানুষকে এর সম্পর্কে জানাতে পারবেন, পণ্যটির গুরুত্ব সম্পর্কে তাদেরকে বুঝাবেন যাতে করে তারা আপনার পণ্যটি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে এবং পণ্যটি কিনতে উদ্বুদ্ধ হয়।

মার্কেটিং বলতে মূলত ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিংটাকেই বুঝানো হয়। যেমনঃ টেলিভিশন, পত্রিকায় দিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার চালানো। কিন্তু ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়টা একটু ভিন্ন ধাঁচের।

Table of Contents

ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

ডিজিটাল মার্কেটিং হল ইন্টারনেট ব্যবহার করে মোবাইল কিংবা কম্পিউটারের সাহায্যে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া যেমনঃ ফেসবুক, পিইন্টারেস্ট, ইন্সটাগ্রাম, সার্চ ইঞ্জিন, কিংবা ইমেইল করার মাধ্যমে নিজের পণ্যের প্রচার করা হয়। মোটকথা বলা যায় ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকে কাজ এ লাগিয়ে নিজের পণ্য বা ব্র্যান্ডের প্রচারণা করাকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলে। 

আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন, তবে বর্তমান সময়ে আপনার অবশ্যই ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে হবে। কারণ  আপনার পণ্যের গ্রাহক আছেন বা হবেন তারা বর্তমানে ইন্টারনেট বেশি ব্যবহার করেন বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া। 

ডিজিটাল মার্কেটিং কেন দরকার?

ডিজিটাল মার্কেটিং কি সেটি আশা করি বুঝতে পারছেন। এখন আপনার মনে হয়তবা প্রশ্ন জেগেছে কেন করব ডিজিটাল মার্কেটিং? কেন করবেন সে সম্পর্কে কিছুটা ধারনা আমরা আপনাকে শুরুতে দিয়েছিলাম। এখন বিস্তারিত আলোচনা করব।

যে সকল কারণে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং করবেনঃ

  • কম খরচে প্রচারণা

ডিজিটাল মার্কেটিং এর অনেকগুলো সুবিধার মধ্যে একটি হল যেহেতু আপনি ইন্টারনেটের সাহায্যে আপনার ব্যবসার প্রচারণা করবেন ফলে আপনার খরচ অনেকাংশে কমে যাবে। কারণ, প্রিন্টিং মিডিয়া বা মুখমুখি প্রচারণা করতে গেলে আপনাকে অনেক খরচ বহন করতে হবে যা আপনার সাধ্যের বাইরেও হয়ে যেতে পারে। 

ডিজিটাল মার্কেটিং এর সঠিক ব্যবহার করে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত গ্রাহক অর্থাৎ কাস্টমারের কাছাকাছি যেতে পারবেন ও সফল হতে পারবেন। 

  • সহজে কাঙ্ক্ষিত গ্রাহক খুঁজে পাবেন

 আপনি যদি সহজে আপনার ব্র্যান্ড বা পণ্যের জন্য গ্রাহক খুঁজে পাবেন। বর্তমান যুগ ইন্টারনেটের যুগ, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। কোন ভোক্তা তার কাঙ্ক্ষিত পণ্য কিনতে চাইলে এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনলাইনে তার প্রয়োজনীয় পণ্য খুঁজে থাকে। কারণ এতে করে সহজে তারা পণ্য পেয়ে যায় ও সময় বাঁচে কারণ ঘরে বসেই জিনিস পেয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও খুব সহজে পণ্যর রিভিউ খুঁজে পেতে পারেন ।

এক্ষেত্রে তারা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া যেমনঃ ইন্সটাগ্রাম, লিঙ্কেডিন এসবের তুলনায় ফেসবুকের উপরেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে থাকে। আর ফেসবুকে সহজেই পেজ বা গ্রুপ তৈরি করে আপনি গ্রাহক পাবেন। তবে কেনাকাটার জন্য বিভিন্ন ই- কমার্স ওয়েবসাইট ও ভিসিট করে  থাকে। সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ এর মাধ্যমে এসকল সাইট ভিসিট করে, এখানেও ডিজিটাল মার্কেটিংএর একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে যা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানতে পারবেন। 

  • গ্রাহকের সাথে সহজে সম্পর্ক স্থাপন

আপনি যদি নিজের ব্যবসা সোশ্যাল মিডিয়া তে যুক্ত করেন তবে খুব দ্রুত ও সহজে গ্রাহকের সাথে ভাল সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবেন। কারণ সোশ্যাল মিডিয়া তে টু ওয়ে কমুনিকেশন করা খুব সহজ। এতে করে আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার এর পাশাপাশি পণ্য সম্পর্কে তাদের প্রতিক্রিয়া ও জানতে পারবেন। 

কাস্টমার বা গ্রাহকের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা একটি ব্যবসার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কাস্টমারের পছন্দ ও অপছন্দ সব খুব সহজে জানতে পারা যায় ডিজিটাল মার্কেটিং করলে যা প্রচলিত মার্কেটিং পদ্ধতিতে একটু কস্টকর ছিল।  

  • মার্কেটিং ট্রেন্ড সহজে সনাক্ত করা যায়

আপনি যদি ব্যবসা করতে যান, তবে আপনাকে অবশ্যই ট্রেন্ড মেনে চলতে হবে। মার্কেটিং পদ্ধতি ট্রেন্ডের সাহায্যে পরিবর্তন হয়। আর সহজে ট্রেন্ড সনাক্ত করার উপায় হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং। 

গুগল ট্রেন্ড ব্যবহার করে সহজেই ট্রেন্ড সনাক্ত করে আপনার ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন । ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে সহজে আপনার ব্যবসার জন্য উপযুক্ত ট্রেন্ড নির্বাচন করে এগোতে পারবেন।

  • সহজে ট্র্যাক

ডিজিটাল মার্কেটিং এর সাহায্যে আপনি সহজে আপনার কাস্টমার কারা টা জানতে পারবেন। যেমন আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট খুলেন তবে গুগল আনালায়টিক্স ব্যবহার করে সহজে ওয়েবসাইটের ভিসিটর সংখ্যা, আপনার রেভিনিউ, সিপিসি, সিটিআর, আপনার ব্র্যান্ড বা  প্রোডাক্টের জনপ্রিয়তা সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়া ও লাইভ করে বা ইউটিউবে ভিডিও করে এর মাধ্যমে আপনার কেনাবেচা আর বাড়াতে পারবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রকারভেদ

ডিজিটাল মার্কেটিংএর প্রকারভেদ গুলো হলঃ

১) সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন 

২) সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং

৩) সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

৪) কন্টেন্ট মার্কেটিং

৫)  অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

৬) ইনফ্লুএন্সার মার্কেটিং

৭) ইমেইল মার্কেটিং 

৮) ভাইরাল মার্কেটিং

৯) মোবাইল মার্কেটিং

১০) রি মার্কেটিং 

১১) ভিডিও মার্কেটিং 

১২) অডিও মার্কেটিং 

সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন

সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (এসইও) ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন হল কয়েকটি বিষয়ের সমন্বয়ে তৈরি একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে আপনি আপনার ই- কমার্স ওয়েবসাইটকে গুগল বা যেকোনো সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পাতায় আনতে পারবেন। অনলাইনে ট্রাফিক আনার প্রক্রিয়া কে এসইও বলে। 

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে এসইও কেন করবেন? কেনইবা আপনার ওয়েবসাইটকে গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পাতায় আনবেন? আপনি নিজে যদি কোন পণ্য কিনতে যান, লক্ষ করে দেখবেন আপনি ইন্টারনেটে সার্চ করার সময় কি করে থাকেন? প্রথম পাতা সর্বোচ্চ দ্বিতীয় পাতায় যান, এরপর এর পাতা গুলোতে সার্চ করেন না! কারণ একটাই এত রেজাল্ট খুলে দেখার সময় নাই আর সার্চ ইঞ্জিন গুলো সার্চ করা কীওয়ার্ড অনুযায়ী রেলিভেন্ট সার্চ গুলো মূলত প্রথম পাতাতেই দেখায়। 

এখন আপনার ব্যবসার মতন আর অনেকেই একইরকম ব্যবসা করেন, তাই তাদেকে আপনার টপকাতে হলে আপনাকে প্রথম পাতা কিংবা প্রথম স্থানে আসতেই হবে। তবেই আপনি কাস্টমার পাবেন এবং আপনার পণ্য বেশি বিক্রি হবে।

এই এসইও কে সাধারনত অরগানিক এসইও বলা হয়। কারণ এতে আপনাকে সার্চ ইঞ্জিনকে টাকা দিয়ে ওয়েবসাইট র‍্যাঙ্কে আনা লাগছেনা।  

তবে আপনার যদি ইউটিউবে মার্কেটিং করতে হয় সেক্ষেত্রেও এসইও করতে হবে!

ওয়েবসাইটে এসইও করতে গেলে কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হবেঃ

  • নিশ নির্বাচন

নিশ হল একটি বিষয় যেটি নিয়ে আপনি ব্যবসা করবেন। 

যেমনঃ বাচ্চাদের পুতুলের ব্যবসা আছে আপনার, এক্ষেত্রে আপনার নিশ হল বাচ্চাদের পুতুল।

  • কীওয়ার্ড রিসার্চ

আপনার নিশ এর সাথে সম্পর্কিত সঠিক কীওয়ার্ড খুঁজে বের করাই হল কীওয়ার্ড রিসার্চ। এটি সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। 

যেমনঃ আপনি যখন সার্চ ইঞ্জিন বা গুগলে সার্চ দিবেন দেখেবন বাচ্চাদের পুতুল লিখলে আরও প্রাসঙ্গিক সার্চ বা অনুসন্ধান প্রদর্শন করবে। বাচ্চাদের পুতুলের দাম, বাচ্চাদের পুতুল কই পাব ইত্যাদি সাজেশন প্রদর্শন করবে। এগুলো সংগ্রহ করবেন ।

এছাড়াও গুগল কীওয়ার্ড প্লানার, উবারসাজেস্ট, কীওয়ার্ড এভরিহওয়ার, মজ সহ আরও অনেক ফ্রী ও পেড টুলস আছে যার সাহায্যে কীওয়ার্ড রিসার্চ করতে পারবেন। 

কীওয়ার্ড রিসার্চ করে যে কিওয়ার্ড গুলো মোটামুটি কম্পেটিটিভ বা কম কম্পেটিটিভ সেগুলো দিয়ে পরবর্তীতে আপনার ওয়েবসাইটে কন্টেন্ট লেখা শুরু করবেন। লোকাল এসইও করতে চাইলে যে জায়গার কাস্টমারদের আপনি টার্গেট করেছেন অই জায়গার নাম কীওয়ার্ডের সাথে সংযুক্ত করে দিবেন। 

যেমনঃ কিওয়ার্ড যদি হয় mobile phone shop তবে লোকাল কিওয়ার্ড হবে- mobile phone shop in Dhaka, mobile phone shop near me ইত্যাদি। 

  • অন পেজ অপটিমাইজেশন

আপনি যদি ট্র্যাডিশনাল ভাবে ব্যবসা করে থাকেন তবে দোকান উদ্বোধন আগে কি কাজগুলো করে থাকেন? যে কাজ গুলো করেন সেগুলো হল দোকানকে সুন্দরভাবে সাজানো, পণ্যগুলো সঠিক সিরিয়ালে ও একই রকম পণ্য একটি সেলফে রাখেন, দোকানে পর্যাপ্ত পরিমানে আলোর ব্যবস্থা করেন, অনেকক্ষেত্রে এয়ারকন্ডিশনার লাগানো হয়। 

এভাবে আপনার দোকানটি সুন্দরভাবে সাজান যাতে করে ক্রেতারা সহজে আকৃষ্ট হয়ে আপনার দোকানে আসবে ও আপনার পণ্য কিনবে। এরপর আপনি দোকানটি উদ্বোধন করে আপনার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। 

ঠিক একইরকম ভাবে আপনি যখন আপনার ওয়েবসাইটটি সবার জন্য উন্মুক্ত করবেন কিংবা একটি কন্টেন্ট পাবলিশ করবেন তার আগে কিছু কাজ করতে হবে, দোকান সাজানোর মত, এটিকে অনপেজ অপটিমাইজেশন বলে।

অন পেজ অপ্টিমাইজেশন কয়েকটি ধাপে করতে হবেঃ

১) রেস্পন্সিভ ওয়েব ডিজাইন

ওয়েবসাইটকে শুধুমাত্র সাজালেই হবেনা রেস্পন্সিভ ভাবে সাজাতে হবে, যাতে করে গ্রাহক যারা সাইট ভিসিট করবে তারা পণ্য কিনতে ও কন্টেন্ট পরতে আগ্রহ পায়। একে রেস্পন্সিভ ওয়েব ডিজাইন বলে। 

এর জন্য আপনার দরকার পরবে আপনার ব্যবসার সাথে মানানসই একটি থিম ও সেই থিমের সুন্দর কাস্টমাইজেশন এছাড়াও সাইট নেভিগেশন সুন্দর ও সহজ হতে হবে। এটি অন পেজ এসইওর প্রথম ধাপ বলা যায়।  

২) এসইও বান্ধব কন্টেন্ট তৈরি

আপনি কিওয়ার্ড রিসার্চ করে যেসকল কীওয়ার্ড পেয়েছিলেন, সেগুলো দিয়ে এসইও বান্ধব কন্টেন্ট লিখুন। এছাড়াও- 

  • URL এ মেইন কীওয়ার্ড প্রয়োগ করুন ও ছোট URL তৈরি করুন। এবং সেই কন্টেন্টে ফোকাস বা মেইন কীওয়ার্ড ও তার সাথের রিলেটেড কীওয়ার্ডগুলো সঠিক ভাবে প্রয়োগ করুন। 
  • টাইটলে সর্বচ্চ ১০ টি ওয়ার্ড ব্যবহার করুন। অক্ষর সংখ্যা ৭০ এর বেশি হবেনা।
  • মেটা ডেসক্রিপশনে কীওয়ার্ড একবার অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। 
  • ১০০০ শব্দের একটি কন্টেন্ট এ মেইন কীওয়ার্ড ৪/৫ বার ব্যবহার করলেই এসইও বান্ধব কন্টেন্ট পেয়ে যাবেন। 

 একটি কথা মাথায় রাখবেন যে কন্টেন্ট হল ওয়েবসাইটের রাজা। 

৩) ইমেজ অপটিমাইজেশন

এবার আসব আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, ইমেজ অপটিমাইজেশন। ইমেজ হল কুইন। ইমেজ অপটিমাইজেশন করতে হলে যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখবেন তা হলঃ

  • ইমেজকে ১০০kb এর নিচে কম্প্রেস করে নিন। এক্ষেত্রে TinyJPG সহ আরও কিছু সাইট আছে ব্যবহার করতে পারেন।
  • সঠিকভাবে alt text ব্যবহার করুন। কারণ এটি দ্বারা সার্চ ইঞ্জিন বুঝবে যে আপনি ছবিটি দিয়ে কি প্রকাশ করতে চাচ্ছেন।
  • এরপর ইমেজ আপলোড করে দিন।
৪) ভিডিও অপটিমাইজেশন

এক্ষেত্রে কন্টেন্টের সাথে মানানসই একটি ভিডিও আপলোড করে দিন।

এছাড়াও ইয়স্ট এসইও, রাঙ্কমাথ সহ কিছু প্লাগইন আছে যা আপনাকে অন পেজ অপটিমাইজেশনে সাহায্য করবে।

৫)অফপেজ অপটিমাইজেশন

অনপেজ শেষ হলে আপনার সাইট লাইভ হওয়ার জন্য একদম প্রস্তুত। এবার আপনাকে প্রচার চালাতে হবে। যে সকল উপায় প্রচার চালাবেন তা হলঃ

  • সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার।
  • ব্যাকলিঙ্ক তৈরি। নিশ সম্পর্কিত ব্লগে কমেন্ট করা, গেস্ট পোস্ট, ফোরাম পোস্ট করা, ওয়েব 2.0 সাবমিশন।

ইউটিউব এসইও যেভাবে করবেন

আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওর এসইও করতে গিয়ে যেগুলো লক্ষ্য রাখবেনঃ

  • কম্পেটিটরদের কীওয়ার্ড রিসার্চ করুন। 
  • টাইটেলের অক্ষরসংখ্যা ১০০র মধ্যে রাখুন। টাইটেলে কীওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
  • ভিডিও প্রপার্টিজ আপডেট করাঃ 

টাইটেল, ডেসক্রিপশন, স্টার, কীওয়ার্ড, কমেন্ট, অথর, ওয়েবসাইট আপডেট করুন। 

  • ডেসক্রিপশনে কীওয়ার্ড ও URL ব্যবহার করুন।
  • ভিডিওর ডেসক্রিপশনে আগের ভিডিওর লিঙ্ক যুক্ত করুন।

এছাড়াও ব্ল্যাক হ্যাট, হোয়াইট হ্যাট ও গ্রে হ্যাট এসইও আছে। 

ব্ল্যাক হ্যাট এসইওঃ এটি হল সার্চ ইঞ্জিনের নিয়ম কানুন ভঙ্গ করে ওয়েবসাইটকে রাঙ্কে আনানো। এতে করে আপনি দ্রুত রাঙ্ক পেলেও, পরবর্তীতে পেনাল্টি খেলে ছিটকে পরবেন।

হোয়াইট হ্যাট এসইওঃ এটি হল সার্চ ইঞ্জিনের নিয়মকানুন মেনে সঠিকভাবে এসইও করা।

গ্রে হ্যাট এসইওঃ সার্চ ইঞ্জিনের নিয়মকানুন এমন ভাবে ভঙ্গ করবে যেটা সার্চ ইঞ্জিন ধরতে পারবেনা বা পরবর্তীতে সনাক্ত করলেও কিছু করতে পারেনা। 

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং হল পেইড সার্চ মার্কেটিং, আপনি গুগলকে টাকা দিবেন, গুগল তাদের বিজ্ঞাপন আপনার ওয়েবসাইটের নামের পাশে দিবে এবং আপনার সাইট প্রথম পেজের একদম শুরুতে রাখবে। যতদিন পে করবেন ততদিন শো করবে। এখানে আপনি গুগলকে পে করবেন ট্রাফিক ও ক্লিক পাওয়ার জন্য।  এটিকে আপনি এসইও এর পেইড ভার্শন ও বলতে পারেন। সবচেয়ে জনপ্রিয় পেইড সার্চ মার্কেটিং হল গুগল এডওয়ার্ড, বিং অ্যাডস।

Paid per Advertising (PPC) একটি ডিজিটাল মার্কেটিং পদ্ধতি যার মাধ্যমে যতবার ক্লিক পরবে ততবার আপনার সাইট টাকা পাবে। এছাড়াও আরো আছে Cost per Acquisition (CPA), Cost per Impression (CPM) ইত্যাদি পদ্ধতি। যদিও বিডিং প্রক্রিয়া একটু জটিল এলগরিদম এর সাহায্য চলে তারপর ও Paid per Advertising কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করেঃ

  • বিডের পরিমান ।
  • বিজ্ঞাপনের গুনমান।
  • ফরম্যাট (বিভিন্ন এক্সটেন্সান অন্তর্ভুক্ত)
  • প্রত্যাশিত Click Through Rate (CTR)

এগুলো সম্মিলিতভাবে বিজ্ঞাপনগুলোকে যা দিবে সেটি কে অ্যাড র‍্যাঙ্ক (Ad Rank) বলে। অ্যাড র‍্যাঙ্ক হল অ্যাড কোথায়ে বসবে তা নির্ধারণ করে দেয়। 

এছাড়াও আপনি যদি এক্সটেন্সান ব্যবহার করেন তবে কিছু সুবিধা পাবেন যেমনঃ 

  • অতিরিক্ত কল টু অ্যাকশন । 
  • বিজ্ঞাপনকে নিজের মত করে সাজানো।

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলোও PPC গ্রহন করা শুরু করেছে। এতে করে আপনি আপনার টার্গেট কাস্টমারকে তার নিউজ ফিডে আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবেন। অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়াগুলো ও সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিংকে গুরুত্ব দিচ্ছে। যা ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

সোশ্যাল মার্কেটিং হল ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এটি আপনার ব্যবসা যদি সফল করতে চান তবে অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে হবে। আপনার ব্যবসার প্রচারণার জন্য এরথেকে ভাল স্থান আর কোনটি পাবেন না। সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে ফেসবুক হল সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। তাই আপনার অধিকাংশ গ্রাহক এখানেই পেতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে যা করতে হবে তা হলঃ

  • শুরুতেই একটি ফেসবুক পেজ খুলে নিন ও আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা ফ্রেন্ডদের ইনভাইট করবেন। এছাড়াও তাদের বলুন তাদের পরিচিতদের ইনভাইট করতে।
  • গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধির জন্য ব্যবসার নামে একটি গ্রুপ খুলে নিন। সেখানেও পরিচিতদের যুক্ত করুন ও তাদের বলুন তাদের পরিচিতদের ইনভাইট করতে।
  • নিয়মিত আপনার পণ্য নিয়ে লাইভে আসবেন। এতে করে কাস্টমার আপনার পণ্য কিনতে আগ্রহ পাবেন।
  • পণ্যের ছবি সুন্দর করে তুলবেন ও ভাল রেজুলেশনের ছবি আপলোড দিন।
  • মাঝেমাঝে গিভঅ্যাওয়ে বা ডিস্কাউন্ট দিন কিংবা ছোটখাটো গিফট দিন। এতে করে কাস্টমার খুশি হবে। 

এছাড়াও আপনি ইন্সটাগ্রাম, লিঙ্কডিন, ইউটিউব বা পিইন্টারেস্ট এও কমিউনিটি তৈরি করতে পারবেন। সকল সোশ্যাল মিডিয়াতেই সক্রিয় থাকবেন। এর জন্য একটি রুটিন তৈরি করুন।কাস্টমারদের সাথে আলোচনা করবেন। এতে করে প্রচার বারবে আপনি কাস্টমারও বাড়াতে পারবেন।

কন্টেন্ট মার্কেটিং

কন্টেন্ট মার্কেটিং একটি ছলমান প্রক্রিয়া। এটি  হল গ্রাহকদের মানসম্মত কন্টেন্ট প্রদান করা যাতে করে আপনার বিক্রি আরও বৃদ্ধি পাবে ও গ্রাহকের আস্থা ও বারবে। এক্ষেত্রে কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবেঃ

  • কন্টেন্টে টার্গেট কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
  • কন্টেন্ট কিছুদিন পরপর আপডেট রাখবেন। সার্চ ইঞ্জিন আপডেট কন্টেন্ট পছন্দ করে।
  • সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার কন্টেন্ট শেয়ার করবেন। 

কন্টেন্ট টার্গেট অডিএন্সকে ভেবে তৈরি করবেন। এতে করে তারা আপনার কন্টেন্ট পরতে আগ্রহ পাবে ও আপনার পণ্য কিনবে। সহজে বুঝা যায় এমন ভাষায় কন্টেন্ট লিখবেন।যাতে তারা কীওয়ার্ড দিয়ে খুঁজলেই যেন সাথে সাথে আপনার কন্টেন্ট খুঁজে পায়।

 কন্টেন্ট মার্কেটিং করে আপনি আপনার ব্র্যান্ডের চাহিদা ও পরিচিতি দুটোই বাড়াতে পারবেন। তাই প্রাসঙ্গিক ও সহজ ভাষায় কন্টেন্ট তৈরি করবেন। এবং কীওয়ার্ডের যথাযথ ব্যবহার করে এসইও বান্ধব কন্টেন্ট তৈরি করবেন। এছাড়াও শক্তিশালী সাইট থেকে ব্যাকলিঙ্ক আনার চেষ্টা করবেন।  

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

আপনার  ডিজিটাল মার্কেটিং জানা থাকলে আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সহজে করতে পারবেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল আরেকজনের পণ্য বিক্রির মাধ্যমে কমিশন অর্জন করা। এটি হল পারফরমেন্স অনুযায়ী টাকা পাবেন। যে প্রমশন করেন তাকে অ্যাফিলিয়েট বলা হয়। মোটকথা এরা আরেকজনের পণ্য বিক্রি করে থাকে। 

কেউ যদি কোন অ্যাফিলিয়েটের সাইট হতে রিডাইরেক্ট হয়ে আপনার সাইটে এসে পণ্য কিনে সেটি হল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। 

এটি মনে করেন আপনার প্রোডাক্ট প্রমশনের জন্য সেলেসপারসন নিয়োগ করা। আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর রেট নির্ধারণ করতে পারবেন বিনময়ে শুধু কনভার্সন প্রদান করবেন। অনেক ব্লগার বা ই-কমার্স ওয়েবসাইট অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ব্যবহার করে থাকে। এতে করে দুদিক থেকেই উপকৃত হওয়া যায়, আপনিও সেলস বাড়াতে পারবেন নিশ্চিন্তে, অ্যাফিলিয়েট ও টাকা উপার্জন করবেন। 

অ্যাফিলিয়েট আপনার ব্র্যান্ডকে উপস্থাপন করবেন। তাই অনলাইনে ব্যবসা করতে গেলে অ্যাফিলিয়েটদের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে হবে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি বৈধ ডিজিটাল মার্কেটিং পদ্ধতি।

কিছু  জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলঃ

  • অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম (Amazon Affiliate Program)
  • ক্লিকব্যাংক( Clickbank)
  • শেয়ারসেল (Shareasale)
  • জেভিযু (JVzoo)
  • হটমারট (Hotmart)
  • ক্লিকবুথ (Clickbooth) এবং
  • ইবে পার্টনার প্রোগ্রাম(e-Bay Partner Program) । 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চাইলে আপনাকে অনেক ধৈর্য ধরে চেষ্টা করে যেতে হবে। এখানে রাতারাতি কিছুই পাবেন না। 

ইনফ্লুএন্সার মার্কেটিং

ইনফ্লুএন্সার মার্কেটিং বলতে গেলে ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি নতুন ধরন বলা যায়। ইনফ্লুএন্সার মার্কেটিং হল ডিজিটাল মার্কেটিং এর সর্বশেষ সংযোজন। ইনফ্লুএন্সার মার্কেটিংকে পুরাতন ও নতুন মার্কেটিংএর টুলস এর সমন্বয়ে তৈরি বলা যায়। অনেকেই এটি কি তা আসলে বুঝতে পারেন না। 

ইনফ্লুএন্সার মার্কেটিং হল ইনফ্লুএন্সার যে প্রক্রিয়ায় প্রমশন করে যাতে করে আপনার পণ্য গ্রাহক কিনে। এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে ইনফ্লুএন্সার কারা? 

ইনফ্লুএন্সার হল এমন ধরনের মানুষ যাদের-

  • একটি জিনিস সম্পর্কে বেশ ভাল জানাশোনা আছে , অনলাইনে তাদের পজিশন ভাল, তাদের কথা অডিএন্স সহজেই শুনবে। পণ্যটির সুনাম করলে তারা আকৃষ্ট হয়ে কিনবে।
  • একটি নির্দিষ্ট নিশের সাথে খুব ঘনিস্টভাবে যুক্ত থাকবে এবং অনলাইনে প্রচার চালাবে। 
  • ইনফ্লুএন্সার হল এমন আকজন মানুষ যে আকর্ষণীও ছবি তুলে ও পোস্ট করে মানুশকে ব্যস্ত রাখে। 
  • এরা মূলত সোশ্যাল মিডিয়াতেই বেশি জনপ্রিয় হয়ে থাকে এবং এদের অনেক অনুসারী আছে।

ইনফ্লুএন্সাদের উপর কখনই আপনার ব্যবসায়িক নিয়মকানুন চাপাবেন না। এতে আপনই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।এদেরকে নায়ক নায়িকার সাথে তুলনা করলেও চলবেনা। 

ইনফ্লুএন্সাররা ইনফ্লুএন্সার কারণ এদের প্রচুর অনুসারী সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়াও ওয়েব জগতে আছে । তবে বুঝেশুনে ইনফ্লুএন্সার নির্বাচন করতে হবে। তবেই আপনই সফল হবেন। 

ইমেইল মার্কেটিং

যখন আপনি ইমেইল এর সাহায্যে আপানার পণ্যর প্রচার করবেন তাকে ইমেইল মার্কেটিং বলে। এটি খুবই কার্যকরী একটি ডিজিটাল মার্কেটিং পদ্ধতি।  

ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি আপনার টার্গেট কাস্টমার বা সাবস্ক্রাইবারদের আপনার কোম্পানি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট দিতে পারবেন। এতে করে আপনার ব্র্যান্ডের প্রতি কাস্টমারের আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হবে অনেক গুন বেশি।

ইমেইল  মার্কেটিং এ যেসকল বিষয় লক্ষ্য রাখবেনঃ

  • সুন্দর ও আকর্ষণীয় সাইন আপ ফর্ম ও নিউজলেটার তৈরি করুন জাত করে আপনার কাঙ্ক্ষিত কাস্টমার তা পূরণ করে। 
  • ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভাগ করে মেইল পাঠাবেন। স্প্যাম ফোল্ডারে যেন না জমা হয় সেটি খেয়াল রাখুন।
  • উন্নতমানের ইমেইল সফটওয়ার ব্যবহার করুন। 
  • লিড ম্যাগনেট ব্যবহার করুন।

লিড ম্যাগনেট হল ফ্রীতে ইমেইল গ্রাহককে কিছু জিনিস যেমনঃ পিডিএফ, এমপিথ্রি, ভিডিও ফাইল, কুপন দিবেন যা আপনি কম খরচে তৈরি করত পারবেন।  লিড ম্যাগনেট পেলে গ্রাহক আপনার ব্র্যান্ডকে বেশি বিশ্বাস করবে ও আপনার ব্র্যান্ড তাই বেশি আস্থা অর্জন করবে। 

ইমেইল হল কাস্টমারের কাছাকাছি আসার জন্য সেরা একটি মাধ্যম। এটিকে সঠিক উপায় কাজে লাগান। ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে মুহূর্তেই আপনার পণ্য সম্পর্কে কাস্টমারকে জানাতে পারছেন এতে করে আপনার সময় কম লাগছে, খরচ ও শ্রম দুইটাই অনেকাংশে কমে আসছে। 

ভাইরাল মার্কেটিং

ভাইরাল মার্কেটিং আপনি যে ব্যবসা করুন না কেন, সে ব্যবসাতেই লাগবে। আপনি শুধু কিছু ছবি বা লিখা ট্রেন্ডের সাথে মিলে তা অনলাইনে পোস্ট বা প্রমট করবেন বাকি দায়িত্ব অডিএন্সের। তারাই এটি সবজায়গায় শেয়ার করবে। খুবি অল্প সময়ে আপনার কন্টেন্ট চারপাশে প্রচার হয়ে যাবে। 

তবে আপনার কন্টেন্ট ভাইরাল হবার পিছে আরো একটি বিষয়ের ভূমিকা আছে সেটি হল ওয়ার্ড অফ মাউথ মার্কেটিং। এটি অনলাইনের (৭%) তুলনায় অফলাইনে বেশি চর্চা হয় (৯৭%) । কন্টেন্ট ভাইরাল করার পর আপনি সেটির উপর সবসময় নজর রাখবেন। এক্ষেত্রে ইউটিউব, সোশ্যাল মিডিয়া গুলো কিংবা ওয়েবসাইটে এনালাইটিক্স আছে যা আপনাকে ট্র্যাক করতে সাহায্য করবে।

ভাইরাল মার্কেটিং করতে গেলে কিছু বিষয়ে লক্ষ্য রাখত হবেঃ

  • টার্গেট অডিএন্সকে বুঝতে হবে

আপনি যখন ভাইরাল মার্কেটিং করতে যাবেন তখন সবছেয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যারা আপনার কন্টেন্ট ভাইরাল করবে তাদেরকে বুঝতে হবে। আপনার টার্গেট অডিএন্সের আবেগ, অনুভুতি, মন মানসিকতা বুঝে আপনাকে কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে।

 আপনারা যারা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটার তাদের অবশ্যই কমপক্ষে একটি করে ভাইরাল ক্যাম্পেইন করা উচিত। এক্ষেত্রে আপনাকে একটি পারসোনা নির্বাচন করতে হবে। পারসোনা আপনাকে টার্গেট কাস্টমারের ডেমোগ্রাফিক ও সাইকোগ্রাফিক  তথ্যের সমন্বয় প্রদর্শন করবে। 

  • সঠিক সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম নির্বাচন

একটি বিষয় মাথায় রাখবেন যে, প্রতিটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। 

তাই কন্টেন্ট তৈরি করার পূর্বে আপনার কন্টেন্ট ও টার্গেট অডিএন্সের উপর ভিত্তি করে সোশ্যাল মিডিয়া বাছাই করুন। 

ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, লিঙ্কেডিন,, টুইটার ইত্যাদি সব সোশ্যাল মিডিয়াগুলোই ভাইরাল মার্কেটিং এর জন্য বেশ কার্যকরী, তবে আপনার কন্টেন্টের বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করছে আপনাকে কন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে হবে।

যেমনঃ ইন্সটাগ্রামে ভাইরাল মার্কেটিং করতে হলে আপনাকে ইন্সটাগ্রাম স্টোরি ব্যবহার করতে হবে। আপানার কন্টেন্টকে ভাগ করে অনেকগুল ছবি একটি আকর্ষণীয় ক্যাপশন দিয়ে প্রকাশ করবেন, এতে করে দেখবেন আপনার টার্গেট কাস্টমাররা তাতে আকৃষ্ট হচ্ছে ও তারাই প্রচার করে দিচ্ছে।

  • অধিক এনগেজমেন্ট সম্পন্ন কন্টেন্ট প্রস্তুত করুন

এনগেজমেন্ট সম্পন্ন কন্টেন্ট তখনি তৈরি হবে যখন আপনার কন্টেন্ট প্রাসঙ্গিক ও তথ্যবহুল হবে। যাতে করে ট্রাফিক এনগেজমেন্ট বৃদ্ধি পায়।

  • উপযুক্ত সময় নির্বাচন

আপনি যখন আপনার যে কন্টেন্টটি ভাইরাল করতে যাবেন তখন অবশ্যই কন্টেন্ট পাবলিশ করার সময়টি মাথায় রেখে কাজ করবেন। কারণ একটি দিনের সবসময় কিন্তু আপনার টার্গেট কাস্টমার সোশ্যাল মিডিয়াতে অ্যাক্টিভ থাকবেনা। এই আদর্শ সময়টি আপনার টার্গেট অডিএন্সের অভ্যাস ও পছন্দের উপর নির্ভর করে। 

যেমনঃ  অধিকাংশ মানুষ রাতের বেলা সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশি অ্যাক্টিভ থাকে। তখন যদি আপনার পোস্ট শেয়ার দিতে পারেন, তবেই সেটি সবথেকে বেশি ভাইরাল হবে। 

  • অ্যাড বুস্ট

আপানার কন্টেন্টগুলো যে বিজ্ঞাপন বা অ্যাড বুস্ট করবেন তাতে সংযুক্ত করে দিন। এতে করে আপনার টার্গেট কাস্টমাররা তা দেখবে ও আগ্রহ প্রকাশ করবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তারাই আপনার হয়ে প্রচার করবে। 

  • ইনফ্লুএন্সারের সাথে সম্পর্ক তৈরি করুন

আগেই বলেছিলাম ইনফ্লুএন্সার মার্কেটিং  যে ইনফ্লুএন্সার কারা, এরা ইনফ্লুএন্সার মার্কেটিং এর পাশাপাশি আপনাকে ভাইরাল মার্কেটিং ও অনেক বেশি সাহায্য করবে। তাই একজন ইনফ্লুএন্সারের সাথে ভাল সম্পর্ক করে তুলুন। 

  • রিপোস্ট করুন

আপনি পূর্বে যে কন্টেন্টটি ভাইরাল করার জন্য পোস্ট করেছিলেন সেটিকেই পুনরায় পোস্ট করবেন। লক্ষ্য রাখবেন এতে যেন আবার টার্গেট অডিএন্স যেন বিরক্ত না হয়। তাই খুব সতর্কতার সাথে রিপোস্ট করবেন।

  • স্পষ্ট কল টু অ্যাকশন বাবহার

কল টু অ্যাকশন হল যেকোনো স্পীচ, এক খন্ড লিখা বা এমন কোন কার্যাবলী আপনার কন্টেন্ট পরার জন্য ও পণ্য কিনার জন্য টার্গেট অডিএন্সকে উৎসাহ করবে । আপনার কন্টেন্ট কি প্রকাশ করছে তার জন্য কল টু অ্যাকশন স্পষ্ট রাখুন। 

মোবাইল মার্কেটিং

মোবাইল মার্কেটিং, নাম শুনেই আপনারা নিশ্চয় বুঝতে পারসেন মোবাইল দিয়ে মার্কেটিং করার কথা বলা হয়েছে।  একে মোবাইল ফোন অ্যাডভারটাইসিং ও বলা হয়। 

মোবাইল হল অন্যতম যোগাযোগের মাধ্যম। এতে আছে এসএমএস, এমএমএস সহ আর কিছু সুবিধা যাকে কাজে লাগিয়ে আপনি আপনার ব্যবসার প্রচারণা করতে পারেন। আপনার অফারগুলো সম্পর্কে আপনার টার্গেট কাস্টমারদের জানাতে পারেন। 

এসএমএস এ ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। ইমেইলের মতন এসএমএস এর মাধ্যমেও আপনি কাস্টমার পাবেন ও আপনার পণ্য বিক্রি হবার সুযোগ বারবে। 

যেমনঃ  Chaldal তাদের প্রাথমিক প্রচারণা এসএমএসের মাধ্যমই করেছিল। এসএমএসে তাদের ওয়েবসাইট লিঙ্ক ও ডিস্কাউন্ট কোড দেয় যাতে করে ক্রেতারা আকৃষ্ট হয় ও তাদের ওয়েবসাইটে সাইনআপ করে এবং তাদের পণ্য কিনে। 

 এছাড়াও আপনি অ্যাপ তৈরি করতে পারেন যেটা ইউজার বান্ধব হবে। সহজে ব্যবহার করা যাবে। 

রি মার্কেটিং

রি মার্কেটিং  এর মানে হচ্ছে পুনরায় মার্কেটিং করা। আপনার মনে হয়ত প্রশ্ন আসছে, রি মার্কেটিং কেন করব?

রি মার্কেটিং হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আপনার ব্যবসার প্রচারণা বিজ্ঞাপন তাদের কাছেই যাবে যারা আপনার ওয়েবসাইট এর আগে কোন সময় ভিজিট করেছিল বা আপনার অ্যাপ ব্যবহার করেছিল।  

রি মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি আপনার পূর্ববর্তী কাস্টমারদের ট্র্যাক করতে পারবেন ও আপনার ব্যবসার প্রচার চালাতে পারবেন। 

ভিডিও মার্কেটিং

ভিডিও মার্কেটিং খুবই  জনপ্রিয় একটি ডিজিটাল মার্কেটিং পদ্ধতি। বর্তমান প্রজম্ম লেখা পরতে খুব একটা পছন্দ করেনা , বরং ভিডিও দেখতে পছন্দ বেশি করে। কারণ একটি কন্টেন্ট পড়ে বিষয়বস্তু যতটা না বুঝতে পারবেন আপনি একটি ভিডিও অই একই বিষয়বস্তুর উপর তৈরি করলে আর ভালভাবে বুঝতে পারবেন। ভিডিওতে আপনি সাবলীলভাবে সব কিছু সুন্দর করে ব্যাখ্যা করতে পারেন। 

ভিডিও মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে যেসকল বিষয় লক্ষ্য রাখবেনঃ

  • অপ্রাসঙ্গিক যা কন্টেন্টের বিষয়বস্তুর সাথে যায়না এমন কিছু আপনার কন্টেন্টে তুলে ধরবেন না।
  • টার্গেট অডিএন্স এর মানসিকতা চিন্তা করে ভিডিও কন্টেন্ট বানাবেন।
  • হাই রেজুলেশন যেমনঃ এইচডি ভিডিও দিবেন। এতে করে সবাই দেখার আগ্রহ বেশি পাবে।
  • ভিডিওর ডেসক্রিপশন হিসাবে ছোট করে সুন্দর ও সহজ ভাষায় একটি ডেসক্রিপশন ব্যবহার করবেন।
  • কীওয়ার্ড ও কাছাকাছি কীওয়ার্ডগুলো হ্যাশট্যাগ হিসাবে ডেসক্রিপশনে ব্যবহার করুন। 

ভিডিও মার্কেটিং এর জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় প্লাটফর্ম হল ইউটিউব। এছাড়াও ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মকেও আপনি ভিডিও মার্কেটিং এর জন্য কাজে লাগাতে পারবেন। 

অডিও মার্কেটিং

অডিও মার্কেটিং হল অডিও কন্টেন্ট তৈরি করে তা রেডিও তে প্রোগ্রাম হিসাব কিংবা পোডকাস্ট হিসাবে বিভিন্ন অডিও মিডিয়া প্লাটফর্মে প্রচার করা। 

অডিও মার্কেটিং ভিডিও মার্কেটিং এর মত অতটা জনপ্রিয় না হলেও এটি এখন মোটামুটি প্রচলিত বলা চলে। এটি ধীরে ধীরে একটি কার্যকরী ডিজিটাল মার্কেটিং পদ্ধতি  হয়ে উঠসে। আপনি চাইলে নিজে নিজেই আপনার পোডকাস্ট জনপ্রিয় করে তুলতে পারেন, যা আপনাকে আপনার ব্যবসার প্রচারণার জন্য দারুণ সুযোগ এনে দিবে। 

অডিও মার্কেটিং করার জনপ্রিয় মাধ্যম হলঃ

ট্র্যাডিশনাল রেডিও, গান শুনার ওয়েবসাইট যারা সরাসরি গান শুনায় যেমন- স্পটিফাই(Spotify), ডিইযার(Deezer)  ইত্যাদি। 

আমরা আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়টি আসলে কি, কেন করবেন এবং কত গুলো প্রকারভেদ আছে তার বিস্তারিত আলোচনা করে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে বুঝাতে পেরেছি। আশা করছি এই আর্টিকেল পড়ে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে মোটামুটি একটি ধারনা পেয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *